Category Archives: Uncategorized

পঞ্চজনের ঢুলি আহা বেশ বেশ বেশ

পথিক পথ হারায় নায়। এই সময়কালের প্রেক্ষিতে বিচার করিলে আমাদিগের পথিক কে ত্রয়োদশ বঙ্গাব্দের শেষ দশকে অন্য পথের কথা বলা হইয়াছিল। পথিক আপন পরিবার এবং আরও কিছু ভাবিয়া আপনার পার্থিব সুখ পরিহার করিবার মনস্থ করে। তৎকালে ভরতরাজের সাম্রাজ্যে নতুন শাসক তার সুচতুর বুদ্ধিবলে নিজস্ব বলয় করিয়া লইয়াছেন। সেই নব্য সম্রাট নিদান দিয়াছিলেন তোমাদিগের এই পথিক তার পাখিকে সঙ্গে লইয়া লাক্ষাদ্বীপ চলিয়া যাক। আমার পারিষদগণ তোমাদিগের পথিককে লাক্ষাদ্বীপের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চাকুরি করিয়া দিবে। আমি ভরতরাজের পুরা শাসন লইবার আগে ওই পথিককে ইন্দ্রপ্রস্থের রাজসভায় কয়েক বছরের জন্য সভ্য করিয়া লইব। সে আমার বলয়ে থাকিবে। পঞ্চজনের কাজ করিবে তবে ঢুলি হইয়া নহে। রাজবাদক হিসাবে। আমি যাহা যাহা কহিব আমার ঘনিষ্ঠ চাটুকারের ন্যায় তাহাকে বলিতে হইবে ‘আহা বেশ বেশ বেশ’। কোনও প্রশ্ন তুলিতে পারিবে না। প্রশ্ন তুলিবার অবকাশও দেওয়া হইবে না। যখন যাহা বলিবার হইবে রাজবাদকের ন্যায় শিখিতে হইবে। বাক্যে সংযম আনিতে হইবে।

সম্রাট যে সময়ের কথা বলিতেছেন তৎকালে ‘হীরক রাজা’ সংবিধান চিনাইয়াছিলেন। তাই সম্রাট মনে করিয়া দিয়াছিলেন যে তিনি হীরক রাজা নহেন। তিনি কোনওরূপ যন্তর মন্তরে কাহাকেও প্রবেশ করান নায়। ভবিষ্যতে করাইবেন এমন পরিকল্পনা তাহার ছিল না। ময়ূরপঙ্খী রথে চড়িয়া তিনি বিভিন মহাদেশের সাগরের ঢেউ গুনিয়া পাহাড় উচ্চতার সভ্যতা অবলোকন করিয়াছেন। এবং সেই সভ্যতার ব্যাকারণ আপনার গুণে মুখস্ত করিয়াছেন। প্রয়োগ বিদ্যা তিনি শিখিয়া লইয়াছেন। ভরতরাজার ধ্রুপদী সংস্কৃতির সঙ্গে সাগর পাড়ের অচেনা সভ্যতার ব্যকারণ মিলাইয়া একপ্রকার সিরাপ তৈরি করিয়া লইয়াছিলেন। এই সিরাপ তাহার বলয়ের নতুন পুরনো সভাসদদিগকে নিয়মিতভাবে কয়েক দাগ করিয়া খাইতে হয়। তাহার ন্যায় ন্যায়রত্ন এই যুগে বিরল।

সম্রাটের কথা আমাদিগের পথিক শুনেনায়। তার পাখিকে তাহার কাছ হইতে কূটবুদ্ধি প্রয়োগ করিয়া অন্যত্র স্থানান্তরে ব্যবস্থা করিয়া দেওয়া হয়। উন্মুক্ত পাখিকে আবার শৃঙ্খলিত করা হয়। ব্রাহ্মণ সম্রাটের নীরব মন্ত্রণায়। খাঁচার পাখিকে বনে যাইতে দিতে চাহেন নায় তিনি। পথিকের সঙ্গে থাকিতে দিতে চাহেন নায় তিনি এবং তার আত্মীয়স্বজনগণ। পথিকের কাছ হইতে শুধু তাহার পাখিকে ছিনিয়া লওয়া হয় নায়। পথিকের কাছ হইতে তাহার ঢোলক, খঞ্জনী, চোখে কাজল লাগাইবার কাজললতা, কালো কাজল, কাজল কাঠি সব কিছুদিনের জন্য ছিনিয়া লওয়া হইয়াছিল। লাক্ষাদ্বীপ না পাঠাইতে পারিলেও পথিকের নতুন ঠিকানায় তাহার পারিষদরা গোপনে প্রবেশ করিয়া সব লন্ডভন্ড করিয়া দিয়া যায়। গৃহহীন পথিকের ইহাতে কি আর আসে যায়? পঞ্চভূতে একদিন বিলীন হইতেই হইবে। পঞ্চজনের ঢুলির ইহাতে কি আর আসে যায়? পঞ্চরসের আসর হইতে ‘ছেলে ছোকড়া’-এর দল কখন চুপিসারে আসিয়া ঢোলক দিয়া গেছে। কবিগানের কবিয়াল কাজল পেন্সিল দিয়া গেছে। বিদ্রুপ হজম করিবার মন্ত্র বলিয়া দিয়াছিল তাঁরা।

কাজল কালো মেঘে যেমন করিয়া বৃষ্টি আপন মহিমায় বিচরণ করে তাহার ভাষা শিখাইয়া দিয়াছে উহারা। তৃষ্ণার্ত পৃথ্বী অবসন্ন গোধূলী বেলার বৃষ্টিধারায় ভিজিয়া ভিজিয়া সাত রঙের সাত ভাষা বলে। এই ভাষা পথিক শিখিয়া লইয়াছে। রাজার নয়, সম্রাটের নয়, পর্তুগীজের নয়, ইংরেজ বণিকের নয়, পঞ্চজনের ঢুলি হইতে কহিয়াছিল উহারা। ছোট অলিতে গলিতে গান গাইবে কেউ কেউ। ছেঁড়া জামা পড়া মানুষের, উদুম গায়ের মানুষের, ল্যাজ ঝোলা কুকুর ল্যাজ নামিয়ে পাশে পাশে থাকবে। পথিককে বলিতে হইবে ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক………।’

সম্রাট কেন এরুপ করিয়াছিলেন। তাহার উত্তর লিখিবার সময় আজও আসেনায়। পথিককে নিঃস্ব করিয়া দিতে পারিয়াছেন! পথিকের আবার নিঃসঙ্গতা! পথের ঝড়া পাতাও পথিককে দেখিলে শুখা খটখটে রাস্তায় একটু একটু করিয়া পথ করিয়া দেয়। মর্মরিত হয় আগামীর বার্তা বাহক হয়ে। তখন আকাশে আমরা দেখিতে পাই বাঁকা চাঁদ হাসিতেছে। পূবের আকাশে ভোরের গর্বিত আলোর অহংকারে। পথিক পথ হারাইবে কেন? পথিক আলোক হারাইবে কেন? গহন গভীর অন্ধকারে সবুজ মাখা জোনাক সন্ধ্যায়, জোনাক রাতে একা চলিবার অবসরে পথিক কাজল পেন্সিল হাতে হাটিতে জানে। নিঃসঙ্গ, নিস্তরঙ্গ আকাশ বলিয়া কিছু হয় ইহা ‘ঝুমুর গানের’ সর্দার কোনও দিন বলে নায়। দুপুড়ের ঘুঘু কোনও দিন তার রোমান্টিক ‘ঘুঘঘু কই……’ ডাকে বলে নায়। ল্যাজ তুলে কাঠ বিড়ালি যখন পেয়ারা খায় তখন তার আশপাশে রৌদ্রস্নাত সোনালী বিকেল। পিউ কাঁহা ডেকে চলে। ঝিঝি পোকা জীবনান্দ থেকে উঠে আসে গ্রাম্য ঢুলির ঢোলকের ছন্দে। পঞ্চজনের ঢুলি হয়ে গান গেয়ে যায়। চেনা অচেনা পথিক।

পথিক পথ হারায় নায়। প্রলোভন ভুলিয়া আপনভোলা মনে পঞ্চজনের ঢুলি বাজাইতেছে। ফেনিল ঢেউ তাহার সামনে আছড়াইয়া পড়িলেও সম্রাটের চাটুকারের সহিত ‘আহা বেশ বেশ বেশ’ কহিবার জন্য কোনরূপ অনুভূতি অনুভব করেনায়। সুগন্ধি মাখা স্বর্গের নটী আসিয়াছে। নানা রূপ লইয়া। উহারা হয় আসিয়াছে অথবা সম্রাট নেপথ্যে হুকুম দিয়াছেন। উহাদিগের যাইবার জন্য। ছয় ঘোরার রথে চরিয়া তাহারা আসিয়া থাকে। রোপ্যখচিত ফিটন চড়িয়া তাহার আসিয়া থাকেন। রূপ, সাজসজ্জা, সুললিত কণ্ঠস্বর, সুগন্ধি ছাপানো বস্ত্রে স্বর্গের উর্বশী প্রমাণ করিতে চাহিবার উদগ্র বাসনা ছিল তাহাদের। যে খেলা তাহারা খেলিতে আসিয়াছিল তাহাতে ব্যর্থ হইয়া তাহার ফিরিয়া যায়। মর্তের নতুন দল আসে আরও উচ্চকিত ভাষায়। খাজাঞ্চি খুলিয়া বসিয়া খাকেন খাজাঞ্চিবাবু। ভান্ড উপুড় করিয়া স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা লইয়া আসে সম্রাটের খাসমন্ত্রী। সভা পারিষদ। রাজন্যবর্গ।  তবুও পথিক আজও পথ হারায় নায়। খট খটে প্রখর উত্তাপ তাহার কাছে বিদ্রুপের ন্যায় আসিতেছে গত চার দশক ধরিয়া। তবুও সে সম্রাটের কথা শোনে নায়। সম্রাট আবারও সুযোগ পাইলেই পথিককে ‘আহা বেশ বেশ’ বলিবার জন্য নানান ছলে বলে কৌশলে আপনার বলয়ে আনিতে সচেষ্ট থাকিয়াছেন। রাজসভার পারিষদ করিতে চাহিয়াছেন।

পঞ্চজনে কহিতেছে আগামী কয়েক প্রহরে সেই সম্রাটের সময়কালের অবসান হইবে। ভরত রাজের রাজ্যে ৭০ বৎসর হইল নতুন নিয়ম চলিতেছে। এই ৭০ বৎসর কালের মধ্যে আলোচ্য সম্রাট তার প্রত্যুৎপন্ন মেধা, ঞ্জান, তীক্ষ্ণ এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি সহয়তায় আপন গরিমা বাড়াইয়া লইয়াছিলেন। জগৎ সভায় সব সম্রাটের ন্যায় নিজ আসন পাকা করিয়াছিলেন। একে একে মিনার খুলিয়া পড়িয়াছে। ঝাড় বাতির উজ্জ্বলতা কমিয়াছে। ‘জলসাঘর’ আর পারিষদ পাইতেছে না। এহেন সময়ে ‘ডি সি’ নামক বিদ্যুতের স্থান লইয়াছে ‘এসি’ খ্যাত বিদ্যুৎ। তাহার স্থানে আবার পরিবর্তন। ‘সৌরবিদ্যুৎ’ ধীর ধীরে অন্য সকলকে স্থানান্তরে পাঠাইতেছে। বলয় ভাঙ্গিয়া যাইতেছে। নতুন বলয় গড়িয়া উঠিয়াছে। সম্রাটের বয়স হইয়াছে। চুলে রাজবদ্যি মেহেন্দি বাটিয়া লাগাইয়া দিলেও বয়স আড়াল হইতেছে না। গালে ভাজ দেখা যায়। গলায় অনুশীলিত চর্চার সুর এখন আর মেঘমন্দারের মতো শুনায় না। চোখের উজ্জ্বলতা ক্রমে হ্রাস পাইতেছে। সম্রাট বৃদ্ধ হইলেন। বস্ত্রহরণ কাহার হইয়াছিল? কেন হইয়াছিল?  রাজা উলঙ্গ ছিলেন। কোন এক কবি কবিতাসভায় বলিয়াছিলেন, ‘রাজা তোমার কাপড় কোথায়?’ ( সূত্রঃ হুতমের খাতা। লেখাটি কল্পনাআশ্রিত। কোনও চরিত্রের সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই।)

# # #

Leave a comment

Filed under Uncategorized

চুক্তিহীন শ্রমজীবী সাংবাদিকের চোখে ‘গোর্খাল্যান্ড’ চুক্তি

চুক্তিহীন শ্রমজীবী সাংবাদিকের চোখে ‘গোর্খাল্যান্ড’ চুক্তি:
‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দে কেদ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরেরও আপত্তি ছিলঃ নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মহাকরণ সূত্রে খবর পাহাড় সমস্যার সমাধানের জন্য প্রস্তাবিত সংস্থা গঠনের আগে ‘গোর্খাল্যান্ড’ টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ এতে ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা রাখা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে একটি ফ্যাক্স বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ভি কে সিং রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষকে জানিয়েছিলেন, ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা ভবিষ্যতে আলাদা একটি রাজ্যের দাবিতে পরিণত হতে পারে। বিষয়টা নিয়ে ভবিষ্যতে সাবধানে এগনোর পরামর্শও দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের খবর মুখ্যসচিব সমর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। এবং পরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে বিষয়টা বোঝাতে সক্ষম হন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের খবর ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা রাখার জন্য গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। গুরুং বলেছিলেন, ‘শব্দটা না থাকলে এলাকায় গোর্খাল্যান্ড সমর্থকদের বোঝানো সম্ভব হবে না।’ রাজ্য সরকার এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা উভয়ের অবস্থান বিবেচনা করে কেন্দ্র আর আপত্তি করেনি। মুখ্যসচিবের সচিবালয় সূত্রে খবর সদ্য গঠিত এবং ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত সংস্থাটির নিজস্ব আয়ের কোনও সূত্র নেই। এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষ আগেই জানিয়েছেন, সংস্থাটিকে যেহেতু বিধান সভার আইনি অধিকার দেওয়া হচ্ছেনা তাই ওই কমিটির রাজস্ব আদায়ের কোনও ক্ষমতা থাকবে না।
মহাকরণ সূত্রে আরও খবর, প্রস্তাবিত উত্তরবঙ্গ প্রশাসনিক সচিবালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ছুটে আসতে হবে না। খবরটি আপনারা যতটুকু পড়লেন সেটি প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে। কাগজটি প্রকাশের তারিখ ছিল ২০/০৭/১১, আমি সেই কাগজটির ওই সময়ের সিনিয়র সাংবাদিক হিসাবে মহাকরণে কর্মরত ছিলাম। দৈনিক পত্রিকাটির সেদিনের সংখ্যা আমার কাছে নেই চুক্তিহীন কাগজের চুক্তিহীন সাংবাদিক হওয়ার জন্য। (যদিও পরে কাগজটি বন্ধ হয়ে গেছে।) কিন্তু পত্রিকার ডেস্কে বসে ‘ডেস্কটপে’ যে ‘মুসাবিদা’ (খসড়া) লিখেছিলাম সেই কপি গত দু’দিন আগে আমি আমার ব্যক্তিগত ফাইল থেকে খুঁজে পেলাম। রেফারেন্স নম্বর ছিল comp desk4/reporting/19/07/11/gorkha : dipendu ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বিষয়ক আরও একটি খবরের খসড়া আমার কাছে রয়েছে। খবরটির তারিখ উল্লেখ করা নেই। সেই কারণে ঠিক বুঝতে না পারলেও বিস্তারিত খবরের ভিত্তিতে অনুমান করে বলা যায় এই খবরটি ১৮ জুলাই, ২০১১ তারিখের আগে। কারণ এই খবরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ জুলাই তৎকালীন ইউপিএ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের সুকনা আসার কথা ঘোষণা করছেন।
সমতল সমতলের মতো থাকবে পাহাড় পাহাড়ের মতো থাকবেঃ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘’সমতল সমতলের মতো থাকবে। পাহাড় পাহাড়ের মতো থাকবে। ডুয়ার্স-তরাইয়ের মানুষ নিশ্চিন্তে থাকুন।‘’ শুক্রবার একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় চুক্তির আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন আরও বলেন, ‘’দার্জিলিং চুক্তির পিছনে সরকারি আধিকারিকদের একটা ভূমিকা ছিল। এটা একটা টিম ওয়ার্ক।‘’ মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘’এটা করতে গেলে একটা ভিশন লাগে। যাদের ভিশন ছিল না তারা আগে করতে পারেনি।‘’ এবং সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানাতে ভোলেন নি যে পাহাড় নিয়ে টানা প্রায় সাড়ে তিন দশকের রাজ্যবাসির উদ্বেগ তিনি বোঝেন। তাই তিনি আবেদন করেন, এটা শুরুর আগের শুরু। এই মহা সন্ধিক্ষণে রাজ্যবাসিকে শান্ত থাকার জন্যও অনুরোধ করেন। এবং তিনি এটাও বলেন, ‘’আমাদের কাজ করতে দেওয়া হোক।‘’
পাশাপাশি নেপালি ভাষীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘’ভাষা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। এসব করে অযথা জল ঘোলা করা ঠিক হচ্ছে না। মহাকরণ থেকে পাহাড়ের ভাইবোনদের যদি শুভেচছা পাঠাই নেপালিতেই পাঠাব।‘’
পাহাড় চুক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম তথা বিরোধীদের আক্রমণ করে জানান, এর আগে কেউ শান্তি শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আর কেউ পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে পারবে না এটা হতে পারে না। নতুন কিছু বেনামি বা বকলমের সংগঠন মিথ্যে প্রচার করছে। চুক্তিটা চাইছে না। চুক্তিটা হোক, সমস্যার সমাধান হোক তারা চান না। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘’যারা এসব করছেন তাঁদের উদ্দেশে বলছি, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবেন না। একটা শব্দ পরিবর্তনে কিছু যায় আসে না।‘’ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘’যারা যেমন পারছে বলছে। তাতে কিছু যায় আসে না। পাহাড় নিয়ে রাজনীতি করছে কিছু কিছু দুষ্টু লোক।‘’ তিনি আরও জানান, ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সুকনা আসবেন। পাহাড় নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হবে ওই দিন। পাহাড় নিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হবে। রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী নিজে থাকবেন। এবং মুখ্যসচিব সমর ঘোষও সে দিন হাজির থাকবেন। বিরোধী দলনেতাকে আমন্ত্রণ জানাবেন মুখ্যসচিব নিজে।
সেদিনের সদ্য নির্বাচিত একটি নতুন জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তখন আবেগে টগবগ করে ফুটছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এক কথা আর ৩৪ বছরের অচলায়তনকে ভেঙ্গে ওই লাল বাড়ির দখল নিতে পেরেছেন তিনি। সেটা অবশ্যই ঐতিহাসিক অধ্যায়। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তখন জঙ্গল মহল এবং দার্জিলিং পাহাড়ের ধারাবাহিক সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো আগের সরকারের করে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা। রাজ্য প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে একা নন তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী ছিলো সদ্য নতুন। দু’একজনকে বাদ দিলে। তবুও অসুবিধা হয়নি কারণ সমর ঘোষ, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় মিত্র, রাজীব সিনহা, বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, মলয় দে সহ একাধিক অভিঞ্জ এবং দক্ষ আই এ এস অফিসার প্রশাসনে ছিলেন এবং এখনও আছেন। তাঁদের পাশে ছিলেন কিছু দক্ষ এবং অভিঞ্জ আই পি এস অফিসার। সেই অভিঞ্জ আই পি এস অফিসারদের অন্যতম সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং জাভেদ শামিম। মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান দার্জিলিঙের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঠিয়েছেন তাঁদের দুজনকে।
পাহাড় নিয়ে যে পর্যালোচনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম করছে সেসব আমরা পড়ছি। সেই গঠনমূলক ধারা বজায় রেখে প্রথমেই আমরা পড়ে নিতে পারি ‘গোর্খাল্যান্ড’ টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ চুক্তিপত্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। আলোচ্য চুক্তিপত্রে ১২টি পয়েন্ট রয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া বিষয়ক কয়েকটি বিষয় আছে যেগুলি বর্তমান বাস্তবতায় খুব কিছু প্রয়োজনীয় নয়। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যসরকারের প্রতিনিধি এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিনিধিদের উপস্থিততে যে চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছিল তার কোথায় কোথায় ফাঁক ফোঁকর ছিল বা আছে সেসব রাজ্য এবং কেন্দ্র বিষয়ক বিশেষঞ্জরা আলোচনা করবেন। গত ছ বছরে রাজ্যের গঙ্গা-তিস্তা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফের রঙের হেরফের হয়েছে। উত্তরকন্যারমতো প্রশাসনিক দপ্তর হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ে একটার পর একটা জনজাতিদের জন্য নতুন বোর্ড হয়েছে। উন্নয়নের প্রয়োজনে। পাহাড়ের উন্নয়ন। অবিভক্ত বাংলার একবিংশ শতাব্দীর উনয়ন। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য এখনও হয়নি অনেক কিছু। রাজ্যে শক্তিশালি বিরোধী দলের অবর্তমানে শাসক দলের কিছু কিছু কর্ম কর্তাদের একাধিপত্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিপিএম সহ বামফ্রন্টের দলগুলির অবস্থান দার্জিলিং সহ গোটা উত্তরবঙ্গে আতস কাচ দিয়ে খুঁজে দেখতে হয়। শিলিগুড়িতে সিপিএমের দক্ষনেতা অশোক ভট্টাচার্য কোনওরকমে শিলিগুড়ি পুরসভা দখলে রেখেছেন। কংগ্রেস যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মাদার’ সংগঠন তাই কংগ্রেসের আজকের ভাঙ্গন আগামীকালের ভবিষ্যৎ। এমন একটা মনগড়া দর্শন আমরা ভেবে নিতে পারি। পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক দশকের মানদণ্ডে বলা যায় শতাব্দী প্রাচীন দলটির আর কিছু হারানোর নেই। ২০১১ সালে মাত্র ছ মাসের জন্য সরকারে থাকা বাদ দিলে প্রায় চল্লিশ বছর কংগ্রেস এই রাজ্যের রাজ্য প্রশাসনে নেই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পাহাড় সহ সারা রাজ্যে বিজেপি নামক দলটি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে পেরেছে। কিছুদিন আগে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি অঞ্চলে দলীয় কাজে এসেছিলেন এবং সভা করে গেছেন।
Press Release: A Memorandum of Agreement was signed on 18th July, 2011 at Pintail Village, Darjeeling, between Government of India, Government of West Bengal and Gorkha Janmukti Morcha for creating an autonomous Body to be called Gorkhaland Teritorial Administration (GTA), in the presence of Smt. Mamata Banerjee, Hon’ble Chief Minister of West Bengal and Shri P. Chidabaram, Hon’ble Union Home Minister. Salient features of the agreement are as under.
Point: 8) The Government of India will provide financial assistance of Rs. 200 crore (Rupees Two Hundred Crore) per annum for 3 years for projects to develop the socio-economic infrastructure in GTA over and above the normal plan assistance to the State of West Bengal.
Point: 9) The Government of West Bengal shall provide formula based plan fund with 60 per cent weight age on population and the balance weight age on area backwardness, hill areas and border areas in two equal installments every year for executing developments works.
চুক্তিপত্রের ১২টি পয়েন্টের মধ্যে ২ টির উল্লেখ করলাম এই কারণে যে এই চুক্তির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। প্রায় ছ বছরের কিছু বেশি সময় কেটে গেছে। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সম্পর্কও আগের পর্যায়ে নেই। সর্বপরি কিছুদিনের মধ্যে জিটিএ নির্বাচন। আশা করি জিটিএ চুক্তিপত্রের উল্লেখিত দু’টি বিষয় আলোচ্য সময়ে আমাদের সাহায্য করবে। বর্তমান দশকের আলোচনা থেকে যদি আমরা কিছুটা পিছনের দিকে তাকাই তাহলে দার্জিলিং পাহাড়ের জনজাতিদের বিষয়টা অনেকটা সহজ হতে পারে। একসময়ে ব্রিটিশ সাহেবদের কাছে আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনও অধিকার পাহাড়ের জনজাতিদের ছিলনা। দীর্ঘ বঞ্চনা এবং নিপীড়নের পরে ভারতে স্বাধীনতা আসে। কিন্তু পাহাড়ের ছবি পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা সঠিকভাবে রুপায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন যে ‘বাবুশ্রেণী’ অর্থাৎ স্বাধীন ভারতের ব্যবসায়ী, চা বাগানের মালিক, আমলাদের ধনিক শ্রেণী গজিয়ে উঠেছিল তাঁরাই দার্জিলিঙের রাশ নিজেদের হাতে রাখে। এবং পাহাড়ে অবসর কাটানোর যে সংস্কৃতি সাহেবরা দিয়ে গিয়েছিল সেই সংস্কৃতি আজও সমান লয় ছন্দে চলতে চাইছে। তত্কালে নব্য ‘বাবু’ শ্রেণী পাহাড়ের সমস্ত জনজাতী সম্প্রদায়ের অশিক্ষা, কম শিক্ষা এবং দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে তাঁদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে। তারই ফসল পাহাড়ের মানুষের স্বতন্ত্রতার দাবি। এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার তাঁরা চাইছে।
সেই কারণেই দার্জিলিং পাহাড়ে ‘নেপালী’ ‘ভূটানী’ সমস্ত শ্রেণীর সমস্ত স্তরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ভাষার অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত কেন হয়নি তাঁর গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন সেদিনও ছিল আজও আছে। উত্তর পূর্বের প্রতি ভারতের প্রায় সব সরকারের অবহেলা আমাদের নজরে পড়েছে। ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের ‘পূবে তাকাও’ নীতির আগে পর্যন্ত। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে অবিভক্ত কমিউনিস্ট (সিপিআই)পার্টি নেপালী জাতির ‘পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে’ আঞ্চলিক স্বায়ত্ব শাসনের দাবী করে। ১৯৫৬ সালে দলের তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক জ্যোতি বসু জেলা পার্টি সম্মেলনে এই প্রস্তাব আনেন। ভারতে নিপীড়িত শ্রেণীগুলির বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু থেকে লালবাহাদুর শাস্ত্রী, বল্লভভাই প্যাটেল, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অটল বিহারি বাজপেয়ী প্রায় সকলেই স্বীকার করেছিলেন। কংগ্রেসের ৬০ বছরের শাসনকালে প্রশাসনিক দুর্বলতা যেমন আছে জনজাতিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে কংগ্রেস দল এবং সরকারের সাফল্যও অনেক আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখে একরম বলছেন কিন্তু তাঁর দলের নেতৃত্বের দলিতদের ক্ষেত্রে ভুমিকা আজ আন্তর্জাতিক চর্চার বিষয় হয়েছে। আমরা মনে করতে পারি পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ‘গোর্খা পার্বত্য পরিষদ’ এর সর্বাধিনায়ক সুবাস ঘিসিঙ্গদের সঙ্গে যখন চুক্তি করেন ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা পরিকল্পিতভাবেই রাখেননি। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। অতীত অভিঞ্জতা মাথায় ছিল বলেই ২০১১ সালের চুক্তির সময় ইউপিএ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দ নিয়ে তাঁদের আপত্তি জানিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে প্রথম দফার দায়িত্ব নিয়ে যেমন বলেছিলেন, ‘’মহাকরণ থেকে পাহাড়ের ভাইবোনদের যদি শুভেচছা পাঠাই নেপালিতেই পাঠাব।‘’ এই ভাষায় অনেক আন্তরিকতা ছিল। ভাষা বিষয়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বর্তমানে রাজ্যে ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। অতীত অভিঞ্জতা বলে দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর পূর্ব ভারতে ভারত সরকার জোর করে ‘হিন্দি’ ভাষা চাপিয়ে দিতে পারেনি। রাজ্য থেকে দার্জিলিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক এটা বর্তমান সভ্যতায় আর কোনোদিনই সম্ভব নয়। এই রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থান সেই অনুমোদন দেশের কোনও বোধবুদ্ধিসম্পন্ন রাজনৈতিক দল, নেতা বা সরকারকে দেবে না। আর্থরাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অঙ্গ রাজ্য। আমাদের রাজ্যের মাতৃভাষা বাংলা। এই রাজ্যে ভিন্ন ভাষাভাষীর যারা আছেন তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনে যেমন ‘বাংলা কথ্য ভাষা’ কিছুটা শিখে নিয়েছেন, অনুরোধ করছি কিছুটা নয় রাজ্য সরকারের নতুন ভাষা শিক্ষানীতি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের সহমত হতেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী আপনি রাজ্য শাসন করার ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক বেশি পরিণত। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। পাহাড়ের মানুষ আমাদের সহ নাগরিক। তাঁদের উপর দমন পীড়ন চাপিয়ে দেওয়াটা শাসকের শাসকসুলভ আবেগতারিত বিষয় হয়ে যেতে পারে। পাহাড় এবং সমতলের মানুষের ঐতিহাসিক সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক দু’একদিনে শেষ হয়ে যাওয়ার নয়। অনভিঞ্জ নেতা বা সরকারি অফিসার নয়। অভিঞ্জ অফিসার এবং আপনার দলের অভিঞ্জ নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত সমস্ত রকমের প্ররোচনার উর্ধে। আজকের বাস্তবতা সেটাই দাবি করছে।

Leave a comment

Filed under Uncategorized

কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন

কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন

নামে কি আসে যায়? কলকাতা শহরে কত রাস্তার নাম হারিয়ে গেছে। কত শত নতুন নতুন নাম সংযোজন বিয়োজন হয়েছে। আগামীতে আরও হবে। কিন্তু বই পাড়া তথা কলেজ স্ট্রীটের নাম বদলে দেওয়ার ক্ষমতা? কেঊ হলফ করে বলুক দেখি, আমি পারব।  ব্রিটিশ শাসন ফিরে এলেও কলকাতার যিনি লাটসাহেব হবেন তিনিও আর পারবেন না। আমি হলফ করে বলতে পারি বই গঙ্গা বয়ে যাবে। মানে লাল, সবুজ, গেরুয়া সব রক্ত একাকার হয়ে সেদিন বই গঙ্গার প্রবাহে কলকাতা শহরে নতুন পদচিহ্ন পড়বে। আচ্ছা আমরা আজও কোনদিন কেউ প্রশ্ন তুলেছি ‘কলেজ স্ট্রীট’ কলকাতা পুরসভা তথা সরকার বাহাদুরের কাছে দুয়োরানি কেন হয়ে থাকল? বা আজও হয়েই বা আছে কেন? কলকাতা তুমি আজও বই পাড়ার পাশের বাড়ির শ্রাবণ সন্ধ্যা। কলকাতা আজও তুমি সকালের টিঁকি বাঁধা ট্রামের চেনা সুরের ঘণ্টা। রাত জাগা পাখিদের ডাকে গঙ্গার ঘাটে টেনে নিয়ে যাওয়ার পবিত্রতা। কলকাতা আজও আছ তুমি পুবের রোদ বারান্দায়। মায়াবি নারীর ভেজা চুলের কুচ কুচে কালিমায়। তোমাতেয় গ্রহণ হবে তোমাতেই উন্মেষ। এই শহরে কোথাও হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আছে স্মৃতির ভবিষ্যৎ হয়ে। ভেজা রাস্তার তরতাজা মদ্দ জোয়ানের পিঠে ‘ভিস্তি’। আমাকে কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন। ঘুমিয়ে পড়া হাড়কাটা লেন থাকুক বিলকিস বাঈয়ের ঝুম ঝুম শব্দে। পদ্মা বাঈয়ের আনুনাসিক কণ্ঠে আতরের জল ঝড়ে পড়ুক সারা রাত। তবলা লহরার ছন্দের মাত্রায়। ছন্দ পতনের হাসি হুল্লরে। আমাকে কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন। আচ্ছা কবিতা শুনতে ভালো লাগে? না পড়তে? কবিতা শ্রাব্য না পাঠ্য? রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ উত্তর বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কি নিদান ছিল জানেন? তিনি বলেছিলেন, ‘’প্রকৃত রস-উপলব্ধি হয় কোনটিতে, এ বিষয়ে আমার কোনও স্থির বিশ্বাস নেই! তবে কিছু কিছু কবিতা অন্য কন্ঠে শুনেও উপভোগ করা যায়। আবার কিছু কিছু কবিতা নির্জনে জানলার ধারে বসে পড়াই ঠিক।‘’

কাঁধে ঝোলা নিয়ে হাঁটব। এক ব্যাগ লিটল ম্যাগ নিয়ে হাঁটব। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাঁটব। বাগে কত রঙ, রঙ পেন্সিল, ছোট বড় নানা গ্রহের নানান তুলি। অন্য কাঁধে থাকবে তোমার চোখের ভাষা এঁকে দেওয়ার ইজেল। তোমার পাড়া আমার পাড়া, নাগরিক চেতনার পাড়া। চেনা-অচেনা কবিতার চরণে চরণে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। কবির কবিতা আমাকে বলবে তুমি আজ এই পথ দিয়ে যাবে। কবির কবিতা আমাকে বলবে তুমি অনেকদিন বাম ফুটপাথ ধরে হেঁটেছ। আজ দক্ষিণের গাড়ি বারান্দার নীচ ধরে হেঁটে হেঁটে যাও। আবার নতুন ভাষায়, নতুন শব্দে শরীর গড়ে উঠবে কবিতার। ‘যদি নির্বাসন দাও/ ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াব/ বিষ পান করে মরে যাব।’ আপনি বা আপনারা কি করবেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বই পাড়া বা কলেজ স্ট্রীট আপনাকে দিয়েছে। এই পাড়ায় মুজতবা আলি আজ থাকলে বলতেন, ওই কুট্টিডা কি কয় কত্তা? দ্যাহেন দ্যাহেন লাগামহীন ঘুড়ায় হাসে। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় আজকাল আর বই পাড়ায় আগের মত হাঁটেন না। তারাপদ রায় হাসতে হাসতে চলে গেছেন। জহর রায় থাকলে আজ জানতে চাইতাম কোন বাড়ির ভদ্রলোকের বিবি ভেগেছিল ড্রাইভারের সঙ্গে? উত্তম কুমার কি সত্যি সত্যি কোনও দিন এই বই পাড়ায় হেঁটেছিলেন? আমাদের স্বপ্নের নায়িকা সুচিত্রা সেন? কালকূট কালপুরুষের সময় পেরিয়ে একদিন এবং আজ কালবেলার দস্যিপনা আছে কফি হাঊসের একতলায় দোতলায়। কত কথা হত সেইসব দিনে। ‘এক্ষণ’ পত্রিকার এডিটিং করছেন তিনি। নির্মাল্য আচার্য। কফি হাউসের এক কোনে বসে তিনি পত্রিকা এডিট করছেন। আমরা খুনটুসি করেছি। মৃদু ধমক খেয়েছি। সৌমিত্রদা আসতেন। তখনও রমরম করে বাজারে চলছে হাদা-ভোদাদের দাপাদাপি। আজও আমার সামনে দিয়ে হেঁটে চলেছে কত শত নাম না জানা দক্ষিণের বারান্দার কবিতার প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক অক্ষরপুরুষের দল। যত দিন যায় থেমে থাকলনা এই বিবর্ণ হেঁটে যাওয়া। কলকাতা শহরের বর্ণচ্ছটায় কুশলী বাক্যের বাক বিতণ্ডায় তোমাকে কতজনে চেনেন? কেউ চিনতে চাইছে না ‘বইপাড়া’ তোমার নিকট আত্মা এবং আত্মীয়।

আমাকে কলেজস্ট্রীট চিনিয়েছিলেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। দূর সুদূর থেকে কখনও আজানের আয়োজক আহ্বান শুনতে পেতাম। বেনিয়াটোলা লেনের গলি ধরে যেতাম সন্দীপনদার সঙ্গে। পড়তাম আমহারস্ট্রীট পোস্ট অফিসের সামনে। শিব মন্দিরের ঘণ্টা শুনতে শুনতে বাম ফুটপাত ধরে যেতাম দৈনিক আজকাল পত্রিকার অফিস পর্যন্ত। ফিরতাম কিন্তু ওই একই ফুটপাত ধরে। আসার সময় ওই ফুটপাত ডানদিক হয়ে যেত। যদিও সময় বিচারে ট্রাফিক আইন ভেঙ্গে ফেরা। ওই সময় ক্লান্তি কাকে বলে? কে জানত? ফিরতাম গির্জার সুর ছন্দের সম্মিলিত মৃদু ঘণ্টার অনুভবে।

বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একদিন আমরা বন্ধুরা রাত জেগে মদ্য পান করে বেনিয়াটোলা লেনের এক বন্ধুর প্রেসের সামনে বেঞ্ছ নিয়ে কাকভোরের চ্যাংরামো করছি। আমাদের দলে একজন ছিলো, যে বই পাড়ার খ্যাতনামা কবিদের কাছে খুব পরিচিত ছিল। আমাদের সেই সুপুরুষ বন্ধুটি হঠাত আমাদের বলল, ‘’ওই দ্যাখ শক্তিদা আসছেন। এত সকালে শক্তিদা কোথায় যাবে?‘’ আমরা দেখলাম শক্তি চট্টোপাধায় একটি সাত আট বছরের ছেলের হাত ধরে আমাদের দিকে হেঁটে আসছেন। আমাদের বন্ধুটি উঠে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করল, ‘’শক্তিদা এত সকালে কোথায় যাবেন?’’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘’তোমরা সারা রাত হুল্লোড় করলে। বই পাড়া জেগে ছিল। আমি এখন পুণ্যি করতে যাই।‘’ কথাটা বলে হন হনিয়ে চলে গেলেন। আজও আমার মনে আছে। কবিতার দিব্যি করে বলছি। আমার বারবনিতা বান্ধবীর নামে দিব্যি কেটে বলছি, একটুও বানিয়ে লিখছি না। কবিতার কলকাতা জেগে আছে। কবিতার শহর বেঁচে আছে প্যারিস শহরের মূর্ছনায়, রোম নগরীর বেহালার করুণ ছড়ে। মিশরের ইতিহাসে। কাশী বেনারসের ধ্রুপদী ঘণ্টার আমন্ত্রণে। ভালোবাসার আগুন পাখির কাব্যিক চেতনায় আমরা আজও হাঁটছি কবিতার রাস্তায়। এই সেই পাড়া স্বাধীনতার আগে থেকে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে কলেজ স্ট্রীট। বই পাড়া। গদ্যের সরণী। যে কোনওদিন যে কোনও সময় হাতছানি দিয়ে অজানার আনন্দে ডেকে নিয়ে যেতে পারে এই পাড়া। কৃষ্ণাচূড়ার স্পর্শে টাপুর টুপুর রাতদুপুর আচ্ছন্ন করে আছে কতহাজার রজনীগন্ধা, বেল ফুলের অক্লান্ত অনুভূতি। কাঁঠালিচাঁপার গন্ধ মাখা স্মৃতি ফিরিয়ে দেবে বই পাড়া। কতদিন কত বছর হয়ে গেছে তোমার বয়স? হেরেগো বই রানি? ইতিহাসবেত্তা যারা আছেন তাঁরা নিত্য নৈমত্তিক ভাষায় ঠারে ঠোরে আমাদের জানিয়ে দেবেন আগামীতে। শহর কলকাতা আজ বদলে গেছে। শহরটা লন্ডন না হোক শহরটা আধুনিক হয়ে উঠছে। কিন্তু ‘কলেজ স্ট্রীট’? তুমি কোন পাড়ার মেয়ে? তোমাকে দুয়ো রানি কেন হয়ে থাকতে হচ্ছে? তুমি সধবা না বিধবা? তুমি আজও কেন সধবার একাদশী কর? তুমি কি সত্যি সত্যি সিঙ্গল থেকে যেতে চাও? কোঁথায় তোমার লজ্জা? কিসের এত লজ্জা? সামন্ত যুগের অবসানে তোমাকে আমরা পেয়েছি। আধুনিক ধনতন্ত্র তোমায় ঘর দিল না। সংসদীয় সমাজতন্ত্র তোমাকে আভিজাত্য দিল না। আজ সময় এসেছে বই পাড়া আমরা তোমার সঙ্গে আছি। আলোর বর্ণচ্ছটায় তোমাকে সাজাব। গত কয়েক দশক বাংলার সাহিত্য যতই আনপড় হয়ে যাক। ধ্রুপদী সাহিত্য তুমি খুঁজে না পাও আমরা তোমাকে সাজাব যতনে। আগামী ভারতের শপথ খুঁজে নিতে।

বিশ্বায়ন নামক উন্নত দানবের ভরসা কি তুমি পাও না? না ভাগের বই লেখক পায় না? তুমি বিপ্লবের কলেজ স্ট্রীট? না ঞ্জানের বই পাড়া? কলকাতা বাড়ছে। সময়ের ছন্দে শহর কলকাতা ‘তিলোত্তমা’ হয়ে উঠছে। বলছে সবাই। কিন্তু যে পাড়া থেকে উৎসারিত আলো ছিটকে পড়ছে নাগরিক সভ্যতায় সেই পাড়া আজও দয়া করুণার পাত্র হয়ে থেকে গেল। একটি তথ্য বলছে, অধ্যাপক নির্মল বসু একটি বই লিখেছেন, ‘Calcutta: 1964 A Social Survey’। এই বইয়ে তিনি প্রধানত পৌর রেকর্ডকে মানদণ্ড করে সার্ভের রিপোর্ট লিখেছেন। অরুণ নাগ তাঁর ‘নগর-কীর্তন’ নিবন্ধে(শারদীয় অনুষ্ঠুপ, ২০০৮) লিখছেন, ‘’অধ্যাপক বসু প্রধানত পৌর রেকর্ডের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভের ফলাফল লিপিবদ্ধ করেছেন, যার দুটি ভিত্তিরেখা ১৯১১ ও ১৯৬১ সাল। পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে কলকাতার তৎকালীন ৮০টি পৌর ওয়ার্ডের ১৫টি বাদ দিয়ে ৬৫টির ভূমির ব্যবহার (land use), বিভিন্ন ধর্ম-ভাষা-ভাষীদের বসতি, পেশা, অ-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান-প্রভৃতি নানাবিধ তথ্যে পূর্ণ গবেষণাটি কলকাতা এবং ব্যপকার্থে নগর-গবেষণার একটি মাইল ফলক।‘’ অরুণ বাবুর এই লেখা থেকেই আমরা পাচ্ছি ১৮৫৬ সালে কলকাতার রাস্তার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮১টি। ১৯২৯ সালে রাস্তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৬৩৬ টি। ১৯৬১ তে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ৮০। বর্তমান বছর ২০১৭ সালে এসে হয়েছে ১৪৪ টি ওয়ার্ড। ‘নগর-কীর্তন’ নিবন্ধে অরুণ নাগ আরও লিখছেন, ‘’সরে আসি মধ্য কলকাতার দিকে, বাঙালি হিন্দু অধ্যুষিত পাড়া বেনিয়াটোলা লেন ১৮৫৬-য় নিতান্তই ছোট, মোট ৯টি বাড়ি, বাসিন্দা ৯ জনই বাঙালি হিন্দু ও একটি শিব মন্দির। একজন জমিদার, দু’জন ব্যবসায়ী ও বেনিয়ান, একজন ব্যবসায়ী, একজন সাহেবি কোম্পানিতে ক্যাশ-কিপার, দু’জনের রঙের দোকান, একজনের আফিং ও মশলার দোকান, একজন খোদাই ও গিল্টির কাজ করেন। ১৯২৯-এ তার বিপুল বিস্তার, ৮৮টি বাড়ি, এ ছাড়া কাঁচা বাড়ি, আস্তাবল প্রভৃতি। বাসিন্দা ১০৭টি বাঙালি হিন্দু ও ১টি অবাঙালি হিন্দু পরিবার। দুটি ছাপাখানা ও একটি টাইপ ফাউন্ড্রী, একই পাড়াতে ৪টি মেস, একটি হোটেল ও একটি বোর্ডিং হাউস।‘’

এই লেখায় আলাদা করে কলেজ স্ট্রীট বা বই পাড়া বলে কিছু পাইনি। কিন্তু উল্লেখ করা যায় কলেজস্ট্রীটের বই পাড়ার বেনিয়াটোলা লেনেই আছে বাংলার খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা। তবু ঝা চক চকে কলকাতা শহরের মাঝে বই পাড়া আজও কেন বিবর্ণ? প্রাণচঞ্চল কলেজ স্ট্রীটের কি একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের সরণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা নেই? আপনারা কি বলেন? জানেন এই সেদিন আমি হ্যারিসন স্ট্রীট থুরি মাফ করবেন আমায়। সেদিন মহাত্মা গাঁধি রোড আর বেনিয়াটোলা লেনের সংযোগে দাঁড়িয়ে আছি। হ্যা ঠিক বুঝেছেন নাম করা প্রকাশনা সংস্থার সামনে। হঠাত ষাট ছুঁই ছুঁই এক পৌঢ় এসে আমাকে জিগ্যেস করল ‘’দর্জি পাড়াটা ঠিক কোথায় বলুন দিকি দেখি একটু।‘’

উত্তর দিলাম, ‘’দর্জি পাড়া কলেজ স্ট্রীটে?’’

ভদ্রলোক বললেন, ‘’আঞ্জে হ্যা, শ্রীকান্ত বাবুর এক দাদা থাকতেন না।‘’ ভদ্রলোকের কথা শুনে আস পাশের লোকজন মুচকে মুচকে হাসছেন। ভদ্রলোক এবার বললেন, ‘’আরে মশায় শরৎবাবু লিখেছেন না দর্জি পাড়ার কথা।‘’

আমি কথা না বাড়িয়ে পাশের গলিতে চলে গেলাম। দু’একজন ফিচেল ছেলে মেয়ে তখন স্মার্ট ফোন নিয়ে কিছু একটা খুঁজছে। কেউ একজন বলল ‘’যত পাগলের দল এই কলেজ স্ট্রীটেই আসে?’’

আমি তখনও হাঁটছি। আমি একা একা হাঁটছি। কবিতার জন্য, বাংলা গদ্যের জন্য হাঁটী হাঁটি পা পা। সৃষ্টির জন্য পায়ে পায়ে হাঁটতে সবাই চায়। এই পাড়ায় কত সভাঘর আছে। ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট, স্টুডেন্টস হল, মহাবোধী সোসাইটি, ত্রিপুরা হিতসাধনী। সুনীল, শক্তি, সন্দীপন আপত্তি করবে? সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক আপত্তি করবে?  আরও ছোট বড় সভার জন্য সুসজ্জিত হাব হলে? শ্রীকান্ত, মধবীলতা, সত্যবতী, করালি, অনিমেষ কেউ আপত্তি করবে? সাহিত্য সভা হবে সেই সব ছোট বড় হলে। কবিতা সভা হবে সেই সব আধুনিক প্রযুক্তির সভকক্ষে। শিক্ষার জন্য ওই সভাঘরে হাজার বছর ধরে সুশৃঙ্খলভাবে হাঁটব আমি তোমার সনে। আমার হারিয়ে যাওয়া ‘বনলতা’ আমাকে ডেকে বলবে তুমি আর গ্রামে ফিরে যেওয়া না। নাগরিক কবিতা তোমাকে চিনেছে। নাগরিক সাহিত্য তোমাকে পথ চেনাবে। নাগরিক সাংবাদিক তোমাকে ‘কর্পোরেট ভিলেজ’-এ নিয়ে যাবে।  দুয়োরানি ‘বই পাড়া’ সুয়োরানি হয়ে সেজে উঠবে একদিন। আসুন এইদিনে আবৃত্তি করি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘পুরনো কলকাতা’ কবিতার শেষ স্তবক থেকে। ‘’আর তখনই মনে হয়, যেন যাত্রীবাহী কোনো প্রাচীন জাহাজ/ যা একদা ডুবে গিয়েছিল/ একটা টানা দশকের ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়ে/ আমাদেরই সামনে সে আবার / ধীরে-ধীরে ভেসে উঠছে জলের উপরে।‘’

 

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Obama to Announce Steps to Ease Pathway From Prison to Jobs and Regular Life

President Obama’s initiative is part of a broader criminal justice reform campaign

Source: Obama to Announce Steps to Ease Pathway From Prison to Jobs and Regular Life

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Why Debate Chaos Won’t End Soon

Morning Must Reads: November 2 Source: Why Debate Chaos Won’t End Soon

Source: Why Debate Chaos Won’t End Soon

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Why Debate Chaos Won’t End Soon

Morning Must Reads: November 2

Source: Why Debate Chaos Won’t End Soon

1 Comment

Filed under Uncategorized

Cardinal Donald Wuerl: There Is ‘One Big Family of God’

An excerpt from ‘What Did Jesus Ask?’

Source: Cardinal Donald Wuerl: There Is ‘One Big Family of God’

Leave a comment

Filed under Uncategorized