চুক্তিহীন শ্রমজীবী সাংবাদিকের চোখে ‘গোর্খাল্যান্ড’ চুক্তি

চুক্তিহীন শ্রমজীবী সাংবাদিকের চোখে ‘গোর্খাল্যান্ড’ চুক্তি:
‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দে কেদ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরেরও আপত্তি ছিলঃ নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মহাকরণ সূত্রে খবর পাহাড় সমস্যার সমাধানের জন্য প্রস্তাবিত সংস্থা গঠনের আগে ‘গোর্খাল্যান্ড’ টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ এতে ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা রাখা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আপত্তি জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে একটি ফ্যাক্স বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ভি কে সিং রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষকে জানিয়েছিলেন, ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা ভবিষ্যতে আলাদা একটি রাজ্যের দাবিতে পরিণত হতে পারে। বিষয়টা নিয়ে ভবিষ্যতে সাবধানে এগনোর পরামর্শও দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের খবর মুখ্যসচিব সমর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। এবং পরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে বিষয়টা বোঝাতে সক্ষম হন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের খবর ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা রাখার জন্য গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। গুরুং বলেছিলেন, ‘শব্দটা না থাকলে এলাকায় গোর্খাল্যান্ড সমর্থকদের বোঝানো সম্ভব হবে না।’ রাজ্য সরকার এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা উভয়ের অবস্থান বিবেচনা করে কেন্দ্র আর আপত্তি করেনি। মুখ্যসচিবের সচিবালয় সূত্রে খবর সদ্য গঠিত এবং ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত সংস্থাটির নিজস্ব আয়ের কোনও সূত্র নেই। এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষ আগেই জানিয়েছেন, সংস্থাটিকে যেহেতু বিধান সভার আইনি অধিকার দেওয়া হচ্ছেনা তাই ওই কমিটির রাজস্ব আদায়ের কোনও ক্ষমতা থাকবে না।
মহাকরণ সূত্রে আরও খবর, প্রস্তাবিত উত্তরবঙ্গ প্রশাসনিক সচিবালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ছুটে আসতে হবে না। খবরটি আপনারা যতটুকু পড়লেন সেটি প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে। কাগজটি প্রকাশের তারিখ ছিল ২০/০৭/১১, আমি সেই কাগজটির ওই সময়ের সিনিয়র সাংবাদিক হিসাবে মহাকরণে কর্মরত ছিলাম। দৈনিক পত্রিকাটির সেদিনের সংখ্যা আমার কাছে নেই চুক্তিহীন কাগজের চুক্তিহীন সাংবাদিক হওয়ার জন্য। (যদিও পরে কাগজটি বন্ধ হয়ে গেছে।) কিন্তু পত্রিকার ডেস্কে বসে ‘ডেস্কটপে’ যে ‘মুসাবিদা’ (খসড়া) লিখেছিলাম সেই কপি গত দু’দিন আগে আমি আমার ব্যক্তিগত ফাইল থেকে খুঁজে পেলাম। রেফারেন্স নম্বর ছিল comp desk4/reporting/19/07/11/gorkha : dipendu ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বিষয়ক আরও একটি খবরের খসড়া আমার কাছে রয়েছে। খবরটির তারিখ উল্লেখ করা নেই। সেই কারণে ঠিক বুঝতে না পারলেও বিস্তারিত খবরের ভিত্তিতে অনুমান করে বলা যায় এই খবরটি ১৮ জুলাই, ২০১১ তারিখের আগে। কারণ এই খবরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ জুলাই তৎকালীন ইউপিএ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের সুকনা আসার কথা ঘোষণা করছেন।
সমতল সমতলের মতো থাকবে পাহাড় পাহাড়ের মতো থাকবেঃ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘’সমতল সমতলের মতো থাকবে। পাহাড় পাহাড়ের মতো থাকবে। ডুয়ার্স-তরাইয়ের মানুষ নিশ্চিন্তে থাকুন।‘’ শুক্রবার একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় চুক্তির আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন আরও বলেন, ‘’দার্জিলিং চুক্তির পিছনে সরকারি আধিকারিকদের একটা ভূমিকা ছিল। এটা একটা টিম ওয়ার্ক।‘’ মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘’এটা করতে গেলে একটা ভিশন লাগে। যাদের ভিশন ছিল না তারা আগে করতে পারেনি।‘’ এবং সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানাতে ভোলেন নি যে পাহাড় নিয়ে টানা প্রায় সাড়ে তিন দশকের রাজ্যবাসির উদ্বেগ তিনি বোঝেন। তাই তিনি আবেদন করেন, এটা শুরুর আগের শুরু। এই মহা সন্ধিক্ষণে রাজ্যবাসিকে শান্ত থাকার জন্যও অনুরোধ করেন। এবং তিনি এটাও বলেন, ‘’আমাদের কাজ করতে দেওয়া হোক।‘’
পাশাপাশি নেপালি ভাষীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘’ভাষা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। এসব করে অযথা জল ঘোলা করা ঠিক হচ্ছে না। মহাকরণ থেকে পাহাড়ের ভাইবোনদের যদি শুভেচছা পাঠাই নেপালিতেই পাঠাব।‘’
পাহাড় চুক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম তথা বিরোধীদের আক্রমণ করে জানান, এর আগে কেউ শান্তি শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আর কেউ পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে পারবে না এটা হতে পারে না। নতুন কিছু বেনামি বা বকলমের সংগঠন মিথ্যে প্রচার করছে। চুক্তিটা চাইছে না। চুক্তিটা হোক, সমস্যার সমাধান হোক তারা চান না। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘’যারা এসব করছেন তাঁদের উদ্দেশে বলছি, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবেন না। একটা শব্দ পরিবর্তনে কিছু যায় আসে না।‘’ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘’যারা যেমন পারছে বলছে। তাতে কিছু যায় আসে না। পাহাড় নিয়ে রাজনীতি করছে কিছু কিছু দুষ্টু লোক।‘’ তিনি আরও জানান, ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সুকনা আসবেন। পাহাড় নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হবে ওই দিন। পাহাড় নিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হবে। রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী নিজে থাকবেন। এবং মুখ্যসচিব সমর ঘোষও সে দিন হাজির থাকবেন। বিরোধী দলনেতাকে আমন্ত্রণ জানাবেন মুখ্যসচিব নিজে।
সেদিনের সদ্য নির্বাচিত একটি নতুন জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তখন আবেগে টগবগ করে ফুটছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এক কথা আর ৩৪ বছরের অচলায়তনকে ভেঙ্গে ওই লাল বাড়ির দখল নিতে পেরেছেন তিনি। সেটা অবশ্যই ঐতিহাসিক অধ্যায়। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তখন জঙ্গল মহল এবং দার্জিলিং পাহাড়ের ধারাবাহিক সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো আগের সরকারের করে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা। রাজ্য প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে একা নন তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী ছিলো সদ্য নতুন। দু’একজনকে বাদ দিলে। তবুও অসুবিধা হয়নি কারণ সমর ঘোষ, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় মিত্র, রাজীব সিনহা, বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, মলয় দে সহ একাধিক অভিঞ্জ এবং দক্ষ আই এ এস অফিসার প্রশাসনে ছিলেন এবং এখনও আছেন। তাঁদের পাশে ছিলেন কিছু দক্ষ এবং অভিঞ্জ আই পি এস অফিসার। সেই অভিঞ্জ আই পি এস অফিসারদের অন্যতম সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং জাভেদ শামিম। মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান দার্জিলিঙের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঠিয়েছেন তাঁদের দুজনকে।
পাহাড় নিয়ে যে পর্যালোচনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম করছে সেসব আমরা পড়ছি। সেই গঠনমূলক ধারা বজায় রেখে প্রথমেই আমরা পড়ে নিতে পারি ‘গোর্খাল্যান্ড’ টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ চুক্তিপত্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। আলোচ্য চুক্তিপত্রে ১২টি পয়েন্ট রয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া বিষয়ক কয়েকটি বিষয় আছে যেগুলি বর্তমান বাস্তবতায় খুব কিছু প্রয়োজনীয় নয়। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যসরকারের প্রতিনিধি এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিনিধিদের উপস্থিততে যে চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছিল তার কোথায় কোথায় ফাঁক ফোঁকর ছিল বা আছে সেসব রাজ্য এবং কেন্দ্র বিষয়ক বিশেষঞ্জরা আলোচনা করবেন। গত ছ বছরে রাজ্যের গঙ্গা-তিস্তা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফের রঙের হেরফের হয়েছে। উত্তরকন্যারমতো প্রশাসনিক দপ্তর হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ে একটার পর একটা জনজাতিদের জন্য নতুন বোর্ড হয়েছে। উন্নয়নের প্রয়োজনে। পাহাড়ের উন্নয়ন। অবিভক্ত বাংলার একবিংশ শতাব্দীর উনয়ন। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য এখনও হয়নি অনেক কিছু। রাজ্যে শক্তিশালি বিরোধী দলের অবর্তমানে শাসক দলের কিছু কিছু কর্ম কর্তাদের একাধিপত্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিপিএম সহ বামফ্রন্টের দলগুলির অবস্থান দার্জিলিং সহ গোটা উত্তরবঙ্গে আতস কাচ দিয়ে খুঁজে দেখতে হয়। শিলিগুড়িতে সিপিএমের দক্ষনেতা অশোক ভট্টাচার্য কোনওরকমে শিলিগুড়ি পুরসভা দখলে রেখেছেন। কংগ্রেস যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মাদার’ সংগঠন তাই কংগ্রেসের আজকের ভাঙ্গন আগামীকালের ভবিষ্যৎ। এমন একটা মনগড়া দর্শন আমরা ভেবে নিতে পারি। পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক দশকের মানদণ্ডে বলা যায় শতাব্দী প্রাচীন দলটির আর কিছু হারানোর নেই। ২০১১ সালে মাত্র ছ মাসের জন্য সরকারে থাকা বাদ দিলে প্রায় চল্লিশ বছর কংগ্রেস এই রাজ্যের রাজ্য প্রশাসনে নেই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পাহাড় সহ সারা রাজ্যে বিজেপি নামক দলটি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে পেরেছে। কিছুদিন আগে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি অঞ্চলে দলীয় কাজে এসেছিলেন এবং সভা করে গেছেন।
Press Release: A Memorandum of Agreement was signed on 18th July, 2011 at Pintail Village, Darjeeling, between Government of India, Government of West Bengal and Gorkha Janmukti Morcha for creating an autonomous Body to be called Gorkhaland Teritorial Administration (GTA), in the presence of Smt. Mamata Banerjee, Hon’ble Chief Minister of West Bengal and Shri P. Chidabaram, Hon’ble Union Home Minister. Salient features of the agreement are as under.
Point: 8) The Government of India will provide financial assistance of Rs. 200 crore (Rupees Two Hundred Crore) per annum for 3 years for projects to develop the socio-economic infrastructure in GTA over and above the normal plan assistance to the State of West Bengal.
Point: 9) The Government of West Bengal shall provide formula based plan fund with 60 per cent weight age on population and the balance weight age on area backwardness, hill areas and border areas in two equal installments every year for executing developments works.
চুক্তিপত্রের ১২টি পয়েন্টের মধ্যে ২ টির উল্লেখ করলাম এই কারণে যে এই চুক্তির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। প্রায় ছ বছরের কিছু বেশি সময় কেটে গেছে। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সম্পর্কও আগের পর্যায়ে নেই। সর্বপরি কিছুদিনের মধ্যে জিটিএ নির্বাচন। আশা করি জিটিএ চুক্তিপত্রের উল্লেখিত দু’টি বিষয় আলোচ্য সময়ে আমাদের সাহায্য করবে। বর্তমান দশকের আলোচনা থেকে যদি আমরা কিছুটা পিছনের দিকে তাকাই তাহলে দার্জিলিং পাহাড়ের জনজাতিদের বিষয়টা অনেকটা সহজ হতে পারে। একসময়ে ব্রিটিশ সাহেবদের কাছে আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনও অধিকার পাহাড়ের জনজাতিদের ছিলনা। দীর্ঘ বঞ্চনা এবং নিপীড়নের পরে ভারতে স্বাধীনতা আসে। কিন্তু পাহাড়ের ছবি পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা সঠিকভাবে রুপায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন যে ‘বাবুশ্রেণী’ অর্থাৎ স্বাধীন ভারতের ব্যবসায়ী, চা বাগানের মালিক, আমলাদের ধনিক শ্রেণী গজিয়ে উঠেছিল তাঁরাই দার্জিলিঙের রাশ নিজেদের হাতে রাখে। এবং পাহাড়ে অবসর কাটানোর যে সংস্কৃতি সাহেবরা দিয়ে গিয়েছিল সেই সংস্কৃতি আজও সমান লয় ছন্দে চলতে চাইছে। তত্কালে নব্য ‘বাবু’ শ্রেণী পাহাড়ের সমস্ত জনজাতী সম্প্রদায়ের অশিক্ষা, কম শিক্ষা এবং দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে তাঁদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে। তারই ফসল পাহাড়ের মানুষের স্বতন্ত্রতার দাবি। এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার তাঁরা চাইছে।
সেই কারণেই দার্জিলিং পাহাড়ে ‘নেপালী’ ‘ভূটানী’ সমস্ত শ্রেণীর সমস্ত স্তরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ভাষার অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত কেন হয়নি তাঁর গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন সেদিনও ছিল আজও আছে। উত্তর পূর্বের প্রতি ভারতের প্রায় সব সরকারের অবহেলা আমাদের নজরে পড়েছে। ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের ‘পূবে তাকাও’ নীতির আগে পর্যন্ত। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে অবিভক্ত কমিউনিস্ট (সিপিআই)পার্টি নেপালী জাতির ‘পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে’ আঞ্চলিক স্বায়ত্ব শাসনের দাবী করে। ১৯৫৬ সালে দলের তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক জ্যোতি বসু জেলা পার্টি সম্মেলনে এই প্রস্তাব আনেন। ভারতে নিপীড়িত শ্রেণীগুলির বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু থেকে লালবাহাদুর শাস্ত্রী, বল্লভভাই প্যাটেল, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অটল বিহারি বাজপেয়ী প্রায় সকলেই স্বীকার করেছিলেন। কংগ্রেসের ৬০ বছরের শাসনকালে প্রশাসনিক দুর্বলতা যেমন আছে জনজাতিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে কংগ্রেস দল এবং সরকারের সাফল্যও অনেক আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখে একরম বলছেন কিন্তু তাঁর দলের নেতৃত্বের দলিতদের ক্ষেত্রে ভুমিকা আজ আন্তর্জাতিক চর্চার বিষয় হয়েছে। আমরা মনে করতে পারি পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ‘গোর্খা পার্বত্য পরিষদ’ এর সর্বাধিনায়ক সুবাস ঘিসিঙ্গদের সঙ্গে যখন চুক্তি করেন ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দটা পরিকল্পিতভাবেই রাখেননি। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। অতীত অভিঞ্জতা মাথায় ছিল বলেই ২০১১ সালের চুক্তির সময় ইউপিএ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘গোর্খাল্যান্ড’ শব্দ নিয়ে তাঁদের আপত্তি জানিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে প্রথম দফার দায়িত্ব নিয়ে যেমন বলেছিলেন, ‘’মহাকরণ থেকে পাহাড়ের ভাইবোনদের যদি শুভেচছা পাঠাই নেপালিতেই পাঠাব।‘’ এই ভাষায় অনেক আন্তরিকতা ছিল। ভাষা বিষয়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বর্তমানে রাজ্যে ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। অতীত অভিঞ্জতা বলে দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর পূর্ব ভারতে ভারত সরকার জোর করে ‘হিন্দি’ ভাষা চাপিয়ে দিতে পারেনি। রাজ্য থেকে দার্জিলিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক এটা বর্তমান সভ্যতায় আর কোনোদিনই সম্ভব নয়। এই রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থান সেই অনুমোদন দেশের কোনও বোধবুদ্ধিসম্পন্ন রাজনৈতিক দল, নেতা বা সরকারকে দেবে না। আর্থরাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অঙ্গ রাজ্য। আমাদের রাজ্যের মাতৃভাষা বাংলা। এই রাজ্যে ভিন্ন ভাষাভাষীর যারা আছেন তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনে যেমন ‘বাংলা কথ্য ভাষা’ কিছুটা শিখে নিয়েছেন, অনুরোধ করছি কিছুটা নয় রাজ্য সরকারের নতুন ভাষা শিক্ষানীতি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের সহমত হতেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী আপনি রাজ্য শাসন করার ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক বেশি পরিণত। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। পাহাড়ের মানুষ আমাদের সহ নাগরিক। তাঁদের উপর দমন পীড়ন চাপিয়ে দেওয়াটা শাসকের শাসকসুলভ আবেগতারিত বিষয় হয়ে যেতে পারে। পাহাড় এবং সমতলের মানুষের ঐতিহাসিক সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক দু’একদিনে শেষ হয়ে যাওয়ার নয়। অনভিঞ্জ নেতা বা সরকারি অফিসার নয়। অভিঞ্জ অফিসার এবং আপনার দলের অভিঞ্জ নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত সমস্ত রকমের প্ররোচনার উর্ধে। আজকের বাস্তবতা সেটাই দাবি করছে।

Advertisements

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s