কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন

কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন

নামে কি আসে যায়? কলকাতা শহরে কত রাস্তার নাম হারিয়ে গেছে। কত শত নতুন নতুন নাম সংযোজন বিয়োজন হয়েছে। আগামীতে আরও হবে। কিন্তু বই পাড়া তথা কলেজ স্ট্রীটের নাম বদলে দেওয়ার ক্ষমতা? কেঊ হলফ করে বলুক দেখি, আমি পারব।  ব্রিটিশ শাসন ফিরে এলেও কলকাতার যিনি লাটসাহেব হবেন তিনিও আর পারবেন না। আমি হলফ করে বলতে পারি বই গঙ্গা বয়ে যাবে। মানে লাল, সবুজ, গেরুয়া সব রক্ত একাকার হয়ে সেদিন বই গঙ্গার প্রবাহে কলকাতা শহরে নতুন পদচিহ্ন পড়বে। আচ্ছা আমরা আজও কোনদিন কেউ প্রশ্ন তুলেছি ‘কলেজ স্ট্রীট’ কলকাতা পুরসভা তথা সরকার বাহাদুরের কাছে দুয়োরানি কেন হয়ে থাকল? বা আজও হয়েই বা আছে কেন? কলকাতা তুমি আজও বই পাড়ার পাশের বাড়ির শ্রাবণ সন্ধ্যা। কলকাতা আজও তুমি সকালের টিঁকি বাঁধা ট্রামের চেনা সুরের ঘণ্টা। রাত জাগা পাখিদের ডাকে গঙ্গার ঘাটে টেনে নিয়ে যাওয়ার পবিত্রতা। কলকাতা আজও আছ তুমি পুবের রোদ বারান্দায়। মায়াবি নারীর ভেজা চুলের কুচ কুচে কালিমায়। তোমাতেয় গ্রহণ হবে তোমাতেই উন্মেষ। এই শহরে কোথাও হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আছে স্মৃতির ভবিষ্যৎ হয়ে। ভেজা রাস্তার তরতাজা মদ্দ জোয়ানের পিঠে ‘ভিস্তি’। আমাকে কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন। ঘুমিয়ে পড়া হাড়কাটা লেন থাকুক বিলকিস বাঈয়ের ঝুম ঝুম শব্দে। পদ্মা বাঈয়ের আনুনাসিক কণ্ঠে আতরের জল ঝড়ে পড়ুক সারা রাত। তবলা লহরার ছন্দের মাত্রায়। ছন্দ পতনের হাসি হুল্লরে। আমাকে কবিতার রাস্তায় হাঁটতে দিন। আচ্ছা কবিতা শুনতে ভালো লাগে? না পড়তে? কবিতা শ্রাব্য না পাঠ্য? রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ উত্তর বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কি নিদান ছিল জানেন? তিনি বলেছিলেন, ‘’প্রকৃত রস-উপলব্ধি হয় কোনটিতে, এ বিষয়ে আমার কোনও স্থির বিশ্বাস নেই! তবে কিছু কিছু কবিতা অন্য কন্ঠে শুনেও উপভোগ করা যায়। আবার কিছু কিছু কবিতা নির্জনে জানলার ধারে বসে পড়াই ঠিক।‘’

কাঁধে ঝোলা নিয়ে হাঁটব। এক ব্যাগ লিটল ম্যাগ নিয়ে হাঁটব। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাঁটব। বাগে কত রঙ, রঙ পেন্সিল, ছোট বড় নানা গ্রহের নানান তুলি। অন্য কাঁধে থাকবে তোমার চোখের ভাষা এঁকে দেওয়ার ইজেল। তোমার পাড়া আমার পাড়া, নাগরিক চেতনার পাড়া। চেনা-অচেনা কবিতার চরণে চরণে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। কবির কবিতা আমাকে বলবে তুমি আজ এই পথ দিয়ে যাবে। কবির কবিতা আমাকে বলবে তুমি অনেকদিন বাম ফুটপাথ ধরে হেঁটেছ। আজ দক্ষিণের গাড়ি বারান্দার নীচ ধরে হেঁটে হেঁটে যাও। আবার নতুন ভাষায়, নতুন শব্দে শরীর গড়ে উঠবে কবিতার। ‘যদি নির্বাসন দাও/ ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াব/ বিষ পান করে মরে যাব।’ আপনি বা আপনারা কি করবেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বই পাড়া বা কলেজ স্ট্রীট আপনাকে দিয়েছে। এই পাড়ায় মুজতবা আলি আজ থাকলে বলতেন, ওই কুট্টিডা কি কয় কত্তা? দ্যাহেন দ্যাহেন লাগামহীন ঘুড়ায় হাসে। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় আজকাল আর বই পাড়ায় আগের মত হাঁটেন না। তারাপদ রায় হাসতে হাসতে চলে গেছেন। জহর রায় থাকলে আজ জানতে চাইতাম কোন বাড়ির ভদ্রলোকের বিবি ভেগেছিল ড্রাইভারের সঙ্গে? উত্তম কুমার কি সত্যি সত্যি কোনও দিন এই বই পাড়ায় হেঁটেছিলেন? আমাদের স্বপ্নের নায়িকা সুচিত্রা সেন? কালকূট কালপুরুষের সময় পেরিয়ে একদিন এবং আজ কালবেলার দস্যিপনা আছে কফি হাঊসের একতলায় দোতলায়। কত কথা হত সেইসব দিনে। ‘এক্ষণ’ পত্রিকার এডিটিং করছেন তিনি। নির্মাল্য আচার্য। কফি হাউসের এক কোনে বসে তিনি পত্রিকা এডিট করছেন। আমরা খুনটুসি করেছি। মৃদু ধমক খেয়েছি। সৌমিত্রদা আসতেন। তখনও রমরম করে বাজারে চলছে হাদা-ভোদাদের দাপাদাপি। আজও আমার সামনে দিয়ে হেঁটে চলেছে কত শত নাম না জানা দক্ষিণের বারান্দার কবিতার প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক অক্ষরপুরুষের দল। যত দিন যায় থেমে থাকলনা এই বিবর্ণ হেঁটে যাওয়া। কলকাতা শহরের বর্ণচ্ছটায় কুশলী বাক্যের বাক বিতণ্ডায় তোমাকে কতজনে চেনেন? কেউ চিনতে চাইছে না ‘বইপাড়া’ তোমার নিকট আত্মা এবং আত্মীয়।

আমাকে কলেজস্ট্রীট চিনিয়েছিলেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। দূর সুদূর থেকে কখনও আজানের আয়োজক আহ্বান শুনতে পেতাম। বেনিয়াটোলা লেনের গলি ধরে যেতাম সন্দীপনদার সঙ্গে। পড়তাম আমহারস্ট্রীট পোস্ট অফিসের সামনে। শিব মন্দিরের ঘণ্টা শুনতে শুনতে বাম ফুটপাত ধরে যেতাম দৈনিক আজকাল পত্রিকার অফিস পর্যন্ত। ফিরতাম কিন্তু ওই একই ফুটপাত ধরে। আসার সময় ওই ফুটপাত ডানদিক হয়ে যেত। যদিও সময় বিচারে ট্রাফিক আইন ভেঙ্গে ফেরা। ওই সময় ক্লান্তি কাকে বলে? কে জানত? ফিরতাম গির্জার সুর ছন্দের সম্মিলিত মৃদু ঘণ্টার অনুভবে।

বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একদিন আমরা বন্ধুরা রাত জেগে মদ্য পান করে বেনিয়াটোলা লেনের এক বন্ধুর প্রেসের সামনে বেঞ্ছ নিয়ে কাকভোরের চ্যাংরামো করছি। আমাদের দলে একজন ছিলো, যে বই পাড়ার খ্যাতনামা কবিদের কাছে খুব পরিচিত ছিল। আমাদের সেই সুপুরুষ বন্ধুটি হঠাত আমাদের বলল, ‘’ওই দ্যাখ শক্তিদা আসছেন। এত সকালে শক্তিদা কোথায় যাবে?‘’ আমরা দেখলাম শক্তি চট্টোপাধায় একটি সাত আট বছরের ছেলের হাত ধরে আমাদের দিকে হেঁটে আসছেন। আমাদের বন্ধুটি উঠে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করল, ‘’শক্তিদা এত সকালে কোথায় যাবেন?’’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘’তোমরা সারা রাত হুল্লোড় করলে। বই পাড়া জেগে ছিল। আমি এখন পুণ্যি করতে যাই।‘’ কথাটা বলে হন হনিয়ে চলে গেলেন। আজও আমার মনে আছে। কবিতার দিব্যি করে বলছি। আমার বারবনিতা বান্ধবীর নামে দিব্যি কেটে বলছি, একটুও বানিয়ে লিখছি না। কবিতার কলকাতা জেগে আছে। কবিতার শহর বেঁচে আছে প্যারিস শহরের মূর্ছনায়, রোম নগরীর বেহালার করুণ ছড়ে। মিশরের ইতিহাসে। কাশী বেনারসের ধ্রুপদী ঘণ্টার আমন্ত্রণে। ভালোবাসার আগুন পাখির কাব্যিক চেতনায় আমরা আজও হাঁটছি কবিতার রাস্তায়। এই সেই পাড়া স্বাধীনতার আগে থেকে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে কলেজ স্ট্রীট। বই পাড়া। গদ্যের সরণী। যে কোনওদিন যে কোনও সময় হাতছানি দিয়ে অজানার আনন্দে ডেকে নিয়ে যেতে পারে এই পাড়া। কৃষ্ণাচূড়ার স্পর্শে টাপুর টুপুর রাতদুপুর আচ্ছন্ন করে আছে কতহাজার রজনীগন্ধা, বেল ফুলের অক্লান্ত অনুভূতি। কাঁঠালিচাঁপার গন্ধ মাখা স্মৃতি ফিরিয়ে দেবে বই পাড়া। কতদিন কত বছর হয়ে গেছে তোমার বয়স? হেরেগো বই রানি? ইতিহাসবেত্তা যারা আছেন তাঁরা নিত্য নৈমত্তিক ভাষায় ঠারে ঠোরে আমাদের জানিয়ে দেবেন আগামীতে। শহর কলকাতা আজ বদলে গেছে। শহরটা লন্ডন না হোক শহরটা আধুনিক হয়ে উঠছে। কিন্তু ‘কলেজ স্ট্রীট’? তুমি কোন পাড়ার মেয়ে? তোমাকে দুয়ো রানি কেন হয়ে থাকতে হচ্ছে? তুমি সধবা না বিধবা? তুমি আজও কেন সধবার একাদশী কর? তুমি কি সত্যি সত্যি সিঙ্গল থেকে যেতে চাও? কোঁথায় তোমার লজ্জা? কিসের এত লজ্জা? সামন্ত যুগের অবসানে তোমাকে আমরা পেয়েছি। আধুনিক ধনতন্ত্র তোমায় ঘর দিল না। সংসদীয় সমাজতন্ত্র তোমাকে আভিজাত্য দিল না। আজ সময় এসেছে বই পাড়া আমরা তোমার সঙ্গে আছি। আলোর বর্ণচ্ছটায় তোমাকে সাজাব। গত কয়েক দশক বাংলার সাহিত্য যতই আনপড় হয়ে যাক। ধ্রুপদী সাহিত্য তুমি খুঁজে না পাও আমরা তোমাকে সাজাব যতনে। আগামী ভারতের শপথ খুঁজে নিতে।

বিশ্বায়ন নামক উন্নত দানবের ভরসা কি তুমি পাও না? না ভাগের বই লেখক পায় না? তুমি বিপ্লবের কলেজ স্ট্রীট? না ঞ্জানের বই পাড়া? কলকাতা বাড়ছে। সময়ের ছন্দে শহর কলকাতা ‘তিলোত্তমা’ হয়ে উঠছে। বলছে সবাই। কিন্তু যে পাড়া থেকে উৎসারিত আলো ছিটকে পড়ছে নাগরিক সভ্যতায় সেই পাড়া আজও দয়া করুণার পাত্র হয়ে থেকে গেল। একটি তথ্য বলছে, অধ্যাপক নির্মল বসু একটি বই লিখেছেন, ‘Calcutta: 1964 A Social Survey’। এই বইয়ে তিনি প্রধানত পৌর রেকর্ডকে মানদণ্ড করে সার্ভের রিপোর্ট লিখেছেন। অরুণ নাগ তাঁর ‘নগর-কীর্তন’ নিবন্ধে(শারদীয় অনুষ্ঠুপ, ২০০৮) লিখছেন, ‘’অধ্যাপক বসু প্রধানত পৌর রেকর্ডের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভের ফলাফল লিপিবদ্ধ করেছেন, যার দুটি ভিত্তিরেখা ১৯১১ ও ১৯৬১ সাল। পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে কলকাতার তৎকালীন ৮০টি পৌর ওয়ার্ডের ১৫টি বাদ দিয়ে ৬৫টির ভূমির ব্যবহার (land use), বিভিন্ন ধর্ম-ভাষা-ভাষীদের বসতি, পেশা, অ-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান-প্রভৃতি নানাবিধ তথ্যে পূর্ণ গবেষণাটি কলকাতা এবং ব্যপকার্থে নগর-গবেষণার একটি মাইল ফলক।‘’ অরুণ বাবুর এই লেখা থেকেই আমরা পাচ্ছি ১৮৫৬ সালে কলকাতার রাস্তার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮১টি। ১৯২৯ সালে রাস্তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৬৩৬ টি। ১৯৬১ তে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ৮০। বর্তমান বছর ২০১৭ সালে এসে হয়েছে ১৪৪ টি ওয়ার্ড। ‘নগর-কীর্তন’ নিবন্ধে অরুণ নাগ আরও লিখছেন, ‘’সরে আসি মধ্য কলকাতার দিকে, বাঙালি হিন্দু অধ্যুষিত পাড়া বেনিয়াটোলা লেন ১৮৫৬-য় নিতান্তই ছোট, মোট ৯টি বাড়ি, বাসিন্দা ৯ জনই বাঙালি হিন্দু ও একটি শিব মন্দির। একজন জমিদার, দু’জন ব্যবসায়ী ও বেনিয়ান, একজন ব্যবসায়ী, একজন সাহেবি কোম্পানিতে ক্যাশ-কিপার, দু’জনের রঙের দোকান, একজনের আফিং ও মশলার দোকান, একজন খোদাই ও গিল্টির কাজ করেন। ১৯২৯-এ তার বিপুল বিস্তার, ৮৮টি বাড়ি, এ ছাড়া কাঁচা বাড়ি, আস্তাবল প্রভৃতি। বাসিন্দা ১০৭টি বাঙালি হিন্দু ও ১টি অবাঙালি হিন্দু পরিবার। দুটি ছাপাখানা ও একটি টাইপ ফাউন্ড্রী, একই পাড়াতে ৪টি মেস, একটি হোটেল ও একটি বোর্ডিং হাউস।‘’

এই লেখায় আলাদা করে কলেজ স্ট্রীট বা বই পাড়া বলে কিছু পাইনি। কিন্তু উল্লেখ করা যায় কলেজস্ট্রীটের বই পাড়ার বেনিয়াটোলা লেনেই আছে বাংলার খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা। তবু ঝা চক চকে কলকাতা শহরের মাঝে বই পাড়া আজও কেন বিবর্ণ? প্রাণচঞ্চল কলেজ স্ট্রীটের কি একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের সরণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা নেই? আপনারা কি বলেন? জানেন এই সেদিন আমি হ্যারিসন স্ট্রীট থুরি মাফ করবেন আমায়। সেদিন মহাত্মা গাঁধি রোড আর বেনিয়াটোলা লেনের সংযোগে দাঁড়িয়ে আছি। হ্যা ঠিক বুঝেছেন নাম করা প্রকাশনা সংস্থার সামনে। হঠাত ষাট ছুঁই ছুঁই এক পৌঢ় এসে আমাকে জিগ্যেস করল ‘’দর্জি পাড়াটা ঠিক কোথায় বলুন দিকি দেখি একটু।‘’

উত্তর দিলাম, ‘’দর্জি পাড়া কলেজ স্ট্রীটে?’’

ভদ্রলোক বললেন, ‘’আঞ্জে হ্যা, শ্রীকান্ত বাবুর এক দাদা থাকতেন না।‘’ ভদ্রলোকের কথা শুনে আস পাশের লোকজন মুচকে মুচকে হাসছেন। ভদ্রলোক এবার বললেন, ‘’আরে মশায় শরৎবাবু লিখেছেন না দর্জি পাড়ার কথা।‘’

আমি কথা না বাড়িয়ে পাশের গলিতে চলে গেলাম। দু’একজন ফিচেল ছেলে মেয়ে তখন স্মার্ট ফোন নিয়ে কিছু একটা খুঁজছে। কেউ একজন বলল ‘’যত পাগলের দল এই কলেজ স্ট্রীটেই আসে?’’

আমি তখনও হাঁটছি। আমি একা একা হাঁটছি। কবিতার জন্য, বাংলা গদ্যের জন্য হাঁটী হাঁটি পা পা। সৃষ্টির জন্য পায়ে পায়ে হাঁটতে সবাই চায়। এই পাড়ায় কত সভাঘর আছে। ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট, স্টুডেন্টস হল, মহাবোধী সোসাইটি, ত্রিপুরা হিতসাধনী। সুনীল, শক্তি, সন্দীপন আপত্তি করবে? সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক আপত্তি করবে?  আরও ছোট বড় সভার জন্য সুসজ্জিত হাব হলে? শ্রীকান্ত, মধবীলতা, সত্যবতী, করালি, অনিমেষ কেউ আপত্তি করবে? সাহিত্য সভা হবে সেই সব ছোট বড় হলে। কবিতা সভা হবে সেই সব আধুনিক প্রযুক্তির সভকক্ষে। শিক্ষার জন্য ওই সভাঘরে হাজার বছর ধরে সুশৃঙ্খলভাবে হাঁটব আমি তোমার সনে। আমার হারিয়ে যাওয়া ‘বনলতা’ আমাকে ডেকে বলবে তুমি আর গ্রামে ফিরে যেওয়া না। নাগরিক কবিতা তোমাকে চিনেছে। নাগরিক সাহিত্য তোমাকে পথ চেনাবে। নাগরিক সাংবাদিক তোমাকে ‘কর্পোরেট ভিলেজ’-এ নিয়ে যাবে।  দুয়োরানি ‘বই পাড়া’ সুয়োরানি হয়ে সেজে উঠবে একদিন। আসুন এইদিনে আবৃত্তি করি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘পুরনো কলকাতা’ কবিতার শেষ স্তবক থেকে। ‘’আর তখনই মনে হয়, যেন যাত্রীবাহী কোনো প্রাচীন জাহাজ/ যা একদা ডুবে গিয়েছিল/ একটা টানা দশকের ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়ে/ আমাদেরই সামনে সে আবার / ধীরে-ধীরে ভেসে উঠছে জলের উপরে।‘’

 

Advertisements

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s